Mental Health Care during Pandemic - Banner Image
পড়তে ৫ মিনিট
জীবনের টিপস

কোভিড-১৯ মহামারীর সময় মানসিক স্বাস্থ্য এবং মনস্তাত্ত্বিক স্থিতিস্থাপকতা

কোভিড-১৯ মহামারীর সময় মানসিক স্বাস্থ্য এবং মনস্তাত্ত্বিক স্থিতিস্থাপকতা

কোভিড-১৯ মহামারীর সময় মানসিক স্বাস্থ্য এবং মনস্তাত্ত্বিক স্থিতিস্থাপকতা

কোভিড-১৯-কে এমন একটি রোগ হিসেবে বর্ণনা করা হয় যার উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্লান্তি, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট। এই রোগটি প্রধানত ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। কিন্তু কোভিড-১৯ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। প্রকৃতপক্ষে, ম্যাককিন্সির একটি জাতীয় ভোক্তা সমীক্ষা অনুসারে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬৩% মানুষ করোনাভাইরাসের কারণে উদ্বেগ বা বিষণ্ণতায় ভোগার কথা জানিয়েছেন। কোভিড মহামারীর সময় যারা চাকরি হারিয়েছেন, তাদের মধ্যে এই মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা আরও বেশি দেখা যায়।

মহামারীর প্রভাব

মহামারীর প্রভাব

মাসলোর মানব প্রেরণা তত্ত্ব অনুসারে, মানুষের বিভিন্ন চাহিদা রয়েছে, যেগুলোকে তাদের গুরুত্ব অনুযায়ী শ্রেণিবদ্ধ করা যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং মৌলিক চাহিদা হলো খাদ্য ও বাসস্থান। এর পরেই আসে নিরাপত্তার আকাঙ্ক্ষা। জীবনে নিশ্চয়তা, শৃঙ্খলাবোধ এবং স্বাচ্ছন্দ্যের মাধ্যমে এটি অর্জিত হয়। তৃতীয়ত, মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও আপনজনদের সান্নিধ্যের জন্য গভীর আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। অন্য মানুষের সাথে মানসিক ও শারীরিক সংযোগের মাধ্যমে এটি পূরণ হয়। এছাড়াও, আমরা আত্মসম্মান ও আত্মমর্যাদার অনুভূতিও পেতে চাই।

করোনাভাইরাস মহামারী এই স্তরবিন্যাসের প্রতিটি স্তরকে নাড়িয়ে দিয়েছে। চাকরি হারানো বা অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আমাদের শৃঙ্খলা, খাদ্য ও আশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এর পাশাপাশি, সংক্রমিত হওয়ার এক অবিরাম ভয় আমাদের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে। এছাড়াও, লকডাউন এবং সামাজিক দূরত্বের প্রয়োজনীয়তা অন্যদের সাথে মানসিক ও শারীরিক সংযোগ স্থাপনকে কঠিন করে তুলেছে। এই সবকিছুই আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গোষ্ঠীগুলো হলো বয়স্ক ব্যক্তি এবং শিশু বা কিশোর-কিশোরী আছে এমন পরিবারগুলো। বয়স্করা এই ভাইরাসের প্রতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটি অনেকের জন্য অত্যন্ত ভীতিকর হতে পারে। এছাড়াও, উচ্চ ঝুঁকির কারণে তাদের সামাজিক দূরত্ব আরও কঠোরভাবে মেনে চলতে হয়। এর ফলে তারা একাকীত্ব ও উদ্বেগের শিকার হন।

শিশুদের ক্ষেত্রে, স্কুল ও পার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটেছে। করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট এই ব্যাঘাত শুধু শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরই নয়, অভিভাবকদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে।

 

মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া

মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া

লকডাউনের সময় সুস্থ থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সঙ্গের চাহিদা পূরণ করা। এই মহামারীর সময়ে আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার জন্য আপনি যে পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন, সেগুলো হলো:

১. আপনার প্রিয়জনদের সাথে সংযোগ স্থাপন করুন

কাজের জন্য হয়তো আপনাকে অনলাইনে অনেক সময় কাটাতে হচ্ছে। এরপর হয়তো আপনি আর স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে চাইবেন না! তবে, আপনার মানসিক সুস্থতার জন্য বন্ধু ও পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখা খুবই জরুরি। যদিও ফোন কল এবং মেসেজ যোগাযোগের ক্ষেত্রে সাহায্য করে, সংযোগ স্থাপনের জন্য ভিডিও কনফারেন্সিং বেশ কার্যকর।

২. ধ্যানের জন্য সময় বের করুন।

আমরা যেন হতাশাজনক খবরেই পরিবেষ্টিত; আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং বিশ্বের কিছু অংশে বিক্ষোভ চলছে। এই সবকিছু আমাদের ধারণার চেয়েও বেশি মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আপনার দৈনন্দিন কাজ থেকে মাত্র ৩০ মিনিটের জন্য বিরতি নিয়ে শরীর ও মনকে বিশ্রাম দিলে তা ব্যাপকভাবে সাহায্য করতে পারে। ধ্যান মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা কমাতে এবং আমাদের সার্বিক মনস্তাত্ত্বিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে প্রমাণিত হয়েছে।

৩. একটি নতুন রুটিন তৈরি করুন

আপনি বেশিরভাগ সময় বাড়িতে কাটালেও একটি রুটিন মেনে চলা জরুরি। এই নতুন স্বাভাবিক বিশ্বের জন্য আপনার একটি নতুন রুটিনের প্রয়োজন হবে। কিন্তু সময়মতো ঘুম থেকে ওঠা, স্নান ও সাজসজ্জা করা এবং ব্যায়াম করার মতো বিষয়গুলোতে নিয়মিত থাকা আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

৪. আপনার আর্থিক পরিকল্পনা করুন

আর্থিকভাবে সুরক্ষিত থাকলে অনিশ্চয়তার সময়গুলো কম চাপযুক্ত হতে পারে। এর জন্য আপনার সঞ্চয় বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। ফিক্সড ডিপোজিট, মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করুন অথবা আপনার সেভিংস অ্যাকাউন্টে টাকা জমান। অল্প অল্প করেও অনেক কিছু হয়।

আর কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে যদি আপনার মনে হয় যে আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে, তাহলে কোনো চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া একটি ভালো উপায় হতে পারে।

সংক্রান্ত প্রবন্ধসমূহ